যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে রোববার। দেশটির তেহরান ও ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে গতকাল আবার হামলা চালায় ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এ সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অব্যাহতভাবে বাড়ছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা মূল্যায়ন করছেন। খবর রয়টার্স।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গতকাল ১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বা ব্যারেলে ৭৮ সেন্ট বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৭৭ ডলার ৭৯ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ বা ব্যারেলে ৭৬ সেন্ট বেড়েছে। ব্যারেলপ্রতি মূল্য দাঁড়িয়েছে ৭৪ ডলার ৬০ সেন্টে।
দিনব্যাপী লেনদেনের এক পর্যায়ে গতকাল জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছায়। এ সময় ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম ছিল যথাক্রমে ব্যারেলপ্রতি ৮১ ডলার ৪০ সেন্ট ও ৭৮ ডলার ৪০ সেন্ট। ইউরোপের বাজারে গতকাল দিনের শুরুতে জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমলেও দিনশেষে মূল্যবৃদ্ধির হার ১ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।
গত ১৩ জুন সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। এমনকি ইরান পাল্টা জবাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে এমন ঝুঁকিও প্রবল। এ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত সরবরাহে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি বলে বিনিয়োগকারীরা এ ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির বাস্তবতা বিবেচনায় নিচ্ছেন।
সুইডেনভিত্তিক আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো বলেন, ‘ভূরাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা কিছুটা কমছে। কারণ এখন পর্যন্ত সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেনি। তবে চলমান সংঘাত পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রভাবে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা বজায় থাকবে। তাই স্বল্পমেয়াদে দামে অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকতে পারে।’
স্যাক্সো ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হ্যানসেন বলেন, ‘সব নজর বর্তমানে হরমুজ প্রণালির দিকে। ইরান পণ্য পরিবহনে বাধা দেবে কিনা সেটি দেখার বিষয়। পুরোপুরি সরবরাহ বিঘ্নিত না হলেও যদি হুমকির কারণে ট্যাংকার চলাচল বিলম্বিত হয় তাহলে স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে।’
এদিকে মার্কিন বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস রোববার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন এক মাসে অর্ধেক কমে যায় তাহলে ব্রেন্টের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছতে পারে। পরবর্তী ১১ মাসে সরবরাহ কমতে পারে ১০ শতাংশ।